বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রযুক্তির ভূমিকা

ছবিটার সাথে লেখার কোন সম্পর্ক করা ঠিক হবেনা। ভালো লাগলো তাই দিলাম। আর লেখাটাও আর্কাইভ করার জন্য দেয়া তাই যা খুশি তাই করলাম :)

ছবিটার সাথে লেখার কোন সম্পর্ক করা ঠিক হবেনা। ভালো লাগলো তাই দিলাম। আর লেখাটাও আর্কাইভ করার জন্য দেয়া তাই যা খুশি তাই করলাম 🙂

শিল্পায়ন- প্রযুক্তি- অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরস্পর সম্পর্কিত একটি ঘটনাঃ

প্রয়োজন উদ্ভাবনের জনক। মানুষ তাঁর নিজের প্রয়োজনে তৈরি করে প্রযুক্তি এবং তাকে ব্যবহার করে জীবনকে আরও বেশি সহজ করার জন্য। প্রযুক্তির বিকাশ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন আর মানুষের জীবনের সকল ধরনের উৎকর্ষতা তাই হাতে হাত রেখে চলে। ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব তাঁর নিজের স্বার্থেই নিয়ে আসে প্রযক্তিগত উৎকর্ষতা ও আবিষ্কার। শিল্প বিপ্লব শুরু হয় ১৯৬০ সাল থেকে। তারপর একের পর এক আসতে থাকে তাতের উরন্ত মাকু, জ্বালানী হিসেবে কয়লা, সুতা কাটার যন্ত্র গ্রীবসনের “জেনি”, ক্লিপ্টনের “মিউল”।তারপর আসে কার্ট রাইটের বাষ্প চালিত তাঁত, আর জেমস ওয়াটের বাষ্পীয় ইঞ্জিন আসে ১৭৬৮ সালে শিল্পায়নকে দানবীয় গতিশীলতা দিতে। আক্ষরিক অর্থে শিল্প বিপ্লব বলতে যা বোঝায় তা আমাদের দেশে হয়নি। তাই শিল্প বিপ্লবের হাত ধরে যে প্রযুক্তিগত ভিত একটি দেশে নির্মাণ হয় তা আমাদের নেই। ৭২ এর পর বাংলাদেশে বৃহদায়তন শিল্প প্রতিষ্ঠান যা ছিল তা রাষ্ট্রায়ত্ত করা হয়। কিন্তু দুর্বল ব্যাবস্থাপনার কারনে কোন শিল্পই আক্ষরিক অর্থে দাড়াতে পারলোনা। বিরাষ্ট্রীয়করন করা হলে এই শিল্পগুলো যে ব্যক্তিমালিকানার অধীনে গেল তাঁরা কেউই ব্যাবসায়ি বা উদ্যোক্তা ছিলেননা। শিল্প প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনতে হয়, নিত্য নতুন উদ্ভাবন করতে হয় যা করা সম্ভব হয়নি এই প্রতিষ্ঠানের মালিকদের। তাই শিল্প প্রতিষ্ঠানই যেখানে তাঁর সকল শক্তি নিয়ে বিকশিত হলনা প্রযুক্তি কিভাবে, কিসের প্রয়োজনেই বা বিকশিত হবে?

আদমজী- বাপেক্স- গার্মেন্টস সম্ভাবনাময় তিনটি শিল্পের বর্তমান হালচালঃ

আমরা শৈশবের পাঠ্য পুস্তক থেকেই আদমজী পাটকলের নাম জেনে গর্ব ও আনন্দিত বোধ করেছি, এটি এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের এক অভাবনীয় উদাহরন ছিল আদমজী পাটকল। ৫১ বছর ধরে আদমজী কোটি কোটি মানুষের বর্তমান ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে নির্দেশ করেছে। আদমজীর দুর্বলতাকে ঘিরে সরকারের উদাসীনতা এবং অবশেষে সমস্যা সমাধানের দিকে না গিয়ে বন্ধ ঘোষণা করা বাংলাদেশের অর্থ প্রযুক্তির ইতিহাসে একটি স্থায়ী দাগ হিসেবে থেকে যাবে। বলা হয় বছরে গড়ে ৪০ কোটি লোকসান দিয়েছে আদমজী। কিন্তু কখনই এই ক্ষতির পেছনের কারন অনুসন্ধান করা হয়নি। চেষ্টা করা হয়নি প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা আর উৎপাদন বইচিত্র আনার। ১৯৯০ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিশেষজ্ঞ জি এস সাহোতা এসেছিলেন বাংলাদেশের শিল্প খাত নিয়ে গবেষণা করতে। তিনি বলেছিলেন ১৯৫০ এর দশকে সবচাইতে ভালো মেশিনপত্র নিয়ে এ দেশের পাট কলগুলো যাত্রা শুরু করেছিল। ৪০ বছর পর তিনি দেখছেন পাটকলগুলোতে সেই মেশিনপত্রই আছে কিন্তু ভারতে অনেক পরিবর্তন ও উন্নতি করা হয়েছে। অথচ ভারতের পাটকল ও বাংলাদেশের পাটকল যাত্রা শুরু করে প্রায় একই সময়ে। আমাদের দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ ও দক্ষ জনশক্তির অভূতপূর্ব সমাবেশ রয়েছে। ১৯১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশি বিদেশী কম্পানি মিলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়েছে মোট ৭৫ টি, আবিষ্কৃত হয়েছে মোট ২৫ টি। অর্থাৎ সাফল্যের হার ৩:১ অন্যদিকে কেবল দেশীয় কম্পানির কথা যদি ধরি ওজিডিসি, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স মিলিতভাবে এ পর্যন্ত ১৮ টি অনুসন্ধান কূপ অনুসন্ধান করে ৮ টি গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে। অর্থাৎ এদের মিলিত সাফল্যের হার ২.২৫:১ আর শুধু বাপেক্স অনুসন্ধান করে ৩ টি গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে অর্থাৎ সাফল্যের হার ১.৩৩:১ তেল গ্যাস উত্তলোনের ক্ষেত্রে আমরা আমাদের জাতীয় সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলি। এমনকি দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষতাহীন বলে বহুজাতিক কম্পানির সাথে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করতে সরকার দ্বিধা করেনা। অথচ আমাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্যের হার ঐ বিদেশী কোম্পানিগুলোর চাইতেও বেশি। এই উদাহরন সাপেক্ষে আমরা নিশ্চয়ই অনুমান করতে পারি সরকারের সহায়তা থাকলে আমাদের দেশে বিদ্যমান প্রযুক্তি দিয়েই কত কিছু করা সম্ভব। সরকারি সহায়তা পেলে এই প্রযুক্তি হতে পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অর্থনৈতিক মুক্তির উৎস। এ প্রসঙ্গে আরো উল্যেখ্য যে, যে বিদেশী কোম্পানিগুলোকে আমরা উন্নত মনে করছি তারাই অর্থাৎ অক্সিডেনটাল, নাইকো মাগুরছড়া ও টেংরাটিলায় পরিবেশ ও সম্পদ বিনাশকারী দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। অথচ পুরনো ও জীর্ণ জন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করলেও বাপেক্স, পেট্রোবাংলা বা দেশীয়কোন কম্পানির হাতেই এ ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। বাংলাদেশের আর একটি শিল্প গার্মেন্টস ভয়াবহভাবে আমদানী নির্ভর। এই খাতে যে পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় বলে হিসাব দেখানো হয় বাস্তবে আয় তাঁর চেয়ে অনেক কম। যদি রফতানি করে আয় হয় ১০০ বৈদেশিক মুদ্রা তাহলে তাঁর ৭০ থেকে ৭৫ টাকার কাঁচামাল আমদানী করতে হয়। এই অবস্থা পরিবর্তন ও গার্মেন্টস শিল্পকে দেশে শক্ত ভিত দেবার প্রধান পথ হচ্ছে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প গড়ে তোলা। এ শিল্পের প্রধান অংশ হোল সুতা, বস্ত্র শিল্প। এ খাতের বিকাশের জন্য সরকারী উদ্যোগ দরকার। সার্কভুক্ত দেশ, কার্যত ভারত থেকে সুতা আমদানী করা হয়। এভাবে টেকসই শিল্প হিসেবে গার্মেন্টস দাঁড়াতে পারবেনা। শুধু হবে কাঁচামাল আমদানি আর পাকা বা আধা পাকামাল রফতানী নির্ভর শিল্প।

হাইটেক লো পে, প্রযুক্তি ও অর্থনীতির বিপরীতমুখীসম্পর্ক; প্রযুক্তি ও ক্ষমতা সম্পর্কঃ

গত কয়েক বছরের প্রযুক্তির বিকাশের সারমর্ম করলে কয়েকটি ২টি বিষয় পাওয়া যায়।

  • প্রযুক্তিগত বিকাশ একটি অব্যাহত এবং ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
  • প্রযুক্তিগত বিকাশ কি ধরনের কাজে ব্যাবহহৃত হবে তা নির্ভর করে বিদ্যমান ক্ষমতা ও মালিকানা ব্যবস্থার উপর।

বর্তমানে ইন্টারনেট প্রযুক্তি দুরত্ব মোচন, সময় সাশ্রয়ের যে সম্ভাবনা তৈরী করেছে তা এখনো প্রধানত কাজে লাগাচ্ছে এক চেটিয়ে ক্ষমতাধর শক্তিবর্গ। বাজার বিস্তার, বিনিয়োগের নতুন নতুন ক্ষেত্র সন্ধান, প্রচার, অপপ্রচার, অপরাধের নেটওয়ার্ক তৈরি, যৌন বানিজ্যের অভূতপূর্ব সম্প্রসারন, ফাটকাবাজারি ব্যাবসার সম্প্রসারন ইত্যাদি কাজেই ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট টিভির প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে বেশি। অবস্থা দারাচ্ছে এই যে স্যাটেলাইট, কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ, নেটওয়ার্ক ইত্যাদি বিদ্যমান একচেটিয়ে মালিকানা ব্যাবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন নয় বরং খুবি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিনোদন ও তথ্য সাম্রাজ্যের অন্যতম একচেটিয়ে মালিক ট্রেড টার্নার বলেছেন যে “যোগাযোগ ও পরিবহন প্রযুক্তি বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তন জেভাবে ঘটাচ্ছে তা দরিদ্র মানুষের জীবন যাত্রার মান পরিবর্তনের হারের চাইতে অনেকগুন এগিয়ে আছে। ঘটনা এরকম যে, বিশ্বায়ন দ্রুত গতিতে অগ্রসর হচ্ছে আর মানুষ তাকে দেখছে ধীর লয়ে।” বর্তমান বিশ্বে প্রায় ৭০০ কোটি মানুষ। নতুন সহস্রাব্দের শুরুতে মাত্র ১৫ কোটি মানুষ বা ২.৫% মানুষ কম্পিউটার ব্যাবহারের সুযোগ পেয়েছে। এর কেন্দ্রীভবনও লক্ষণীয়। যুক্তরাষ্ট্রে ৪ কোটি বা ১৫% মানুষের কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ আছে। এদের বেশিরভাগ কোন না কোন প্রতিষ্ঠানে ডাটা এন্ট্রির কাজে যুক্ত। মাত্র ২ কোটি বা ৮% মার্কিন জনগোষ্ঠী ইন্টারনেট ব্যাবহার করে। এদের বড় অংশ চাকরির অংশ হিসেবেই ইন্টারনেট ব্যাবহার করে। বাংলাদেশে এই অনুপাত আরও কম। দশকের শুরুতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ২০০০এ মাত্র ১ জন। বর্তমানে এই হার সামান্য বেড়েছে। কম্পিউটার, ইন্টারনেট ব্যাবহার বিন্যাস থেকে আমরা যে চিত্র পাই তা প্রত্যেক অঞ্চলের ভেতরের ভয়াবহ শ্রেণী বৈষম্যই স্পষ্ট করে তোলে। প্রযুক্তির যা কিছু বিকাশ হচ্ছে তার সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু এই ব্যাবহার অপরাধ সৃষ্টিকারী খাত ও ধ্বংসাত্মক খাতেই বেশি হচ্ছে যাতে প্রকৃত আয়স্তরের কোন পরিবর্তন হচ্ছেনা। প্রযুক্তির উন্নয়ন যেখানে অবসর বৃদ্ধি করার কথা, কাজের ভার কমানোর কথা সেখানে সৃষ্টি হচ্ছে বেকারত্ব। দেখা যাচ্ছে পূর্ণকালীন কর্মসংস্থানের তুলনায় খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান, আপেক্ষিকভাবে কম মজুরী। “হাইটেক লো পে” এখন যুক্তরাষ্ট্রে কেবল প্রচলিত বাক্য নয় বিদ্যমান অর্থনৈতিক প্রবণতার সাক্ষর। কাজেই বলা যায় প্রযুক্তির সাথে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্পর্ক বিপরীতমুখীও হতে পারে, এবং তা নির্ভর করে প্রযুক্তির ব্যাবহার এবং ব্যাবহারের উদ্দেশ্যের উপর।

প্রযুক্তি, উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিঃ

প্রযুক্তির বিকাশ এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ এর বহুমুখী ব্যাবহার কোন অরাজনৈতিক বিষয় নয়। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির উপর নির্ভর করে একটি দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন কেমন হবে। প্রযুক্তি সেই উন্নয়নের একটি উপায় মাত্র। প্রযুক্তি থাকলেও সেই উন্নয়ন গনমানুষের কাছে নাও পৌছাতে পারে যদি তা বন্দী থাকে সমাজের সুবিধাভোগী শ্রেণীর হাতে। এর প্রমান কিউবা। নারীর যে সকল রোগ তাঁদের জীবন বিপর্যস্ত করে ধনী দেশে তাঁর পরীক্ষা আর চিকিৎসার যে প্রযুক্তি তা সাধারন, প্রান্তিক নারীর নাগালের বাইরে। কিউবায় সেই প্রযুক্তি কেবল সুলভ এবং নিয়মিতই নয় সকল নারীর জন্য বাধ্যতামূলকও বটে। ব্রিটিশ নারীবাদী লেখক জারমেইন গ্রিয়ার কিউবা সফরে গিয়ে লিখেছিলেন যে যেসব জটিল টেস্ট করা ব্রিটিশ নারীদের অধিকাংশের পক্ষে সম্ভব নয়, যেসব টেস্ট ব্যায়বহুল বলে এই ধনী রাষ্ট্র দায়িত্ব নেয়না, সেসব জটিল টেস্ট সকল কিউবান নারীর জন্য এ গরীবদেশ সহজলভ্য করেছে। কোন টাকা পয়সার ব্যাপার নেই। উদাহরন থেকে স্পষ্ট প্রযুক্তি যখন কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায় তখন তা কতটা অমানবিক হতে পারে। বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য অন্যান্য মৌলিক অধিকারের খাতের যে ভগ্নদশা তা বিদ্যমান রেখে প্রযুক্তির বিকাশের প্রতিশ্রুতি প্রহসন হয়ে দাঁড়ায়। পৃথিবীর কোন দেশ বলেনা তারা ডিজিটাল দেশ গড়বে। যদিও কম্পিউটারাইজ করার ক্ষেত্রে বহু দেশ অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে তবুও এসবের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হোল সকলের জন্য শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান, কাজের অধিকার নিশ্চিত করা। এগুলো নিশ্চিত করলে মানুষ খুব সাধারনভাবেই প্রযুক্তিগত সুবিধাগুলো পাবে। বাংলাদেশের মানুষের শিক্ষা চিকিৎসা নিশ্চিত নয়া করে তাঁর হাতে মোবাইল দেয়া অর্থহীন। বিদ্যুত নিশ্চিত না করে কম্পিউটার দেয়া অর্থহীন।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার?  

৬০ এর দশক থেকে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সবচাইতে গুরুত্ব দেয়া হয়। জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা গেলে অন্যান্য সমস্যা আপনি সমাধান হবে বলে মনে করা হয়। সমাজের কতগুলো মানুষ যদি ধনী হয় তাহলে তা চুইয়ে পরা পদ্ধতিতে (ট্রিকেল ডাউন এফেক্ট)সমাজের বাকি জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক চাহিদা ধীরে ধীরে পুরন করবে। সবুজ বিপ্লব (গ্রিন রেভোলিউশন) এ সময়ের আরও একটি জরুরী ঘটনা। বাংলাদেশে এর প্রভাবে আমদানিকৃত প্রযুক্তি, রাসায়নিক সার, এইচ, ওআই, ভি বা উচ্চ ফলনশীল জাতের প্রয়োগ বাড়তে থাকে। এর ফলস্বরূপ যান্ত্রিক সেচ ব্যাবস্থাও বাড়ে। বাংলাদেশের জৈব বৈচিত্রের উপর এর ফল ছিল ভয়াবহ। আর্সেনিক ও অন্যান্য উপসর্গ এই প্রযুক্তির হাত ধরেই আসে। ৬০এর দশক থেকে এই প্রবৃদ্ধি কেন্দ্রিক চিন্তা প্রতিনিয়ত সংকটের মুখে পরতে থাকে যখন এর পরিবেশ বিধ্বংসী রূপটি সামনে হাজির হয়। আমদানিকৃত প্রযুক্তি আমাদের দেশে কৃষিতে নারীর ভূমিকা খর্ব করে। অথচ উন্নয়নশীল দেশে কৃষির ৫৫% এর বেশি কাজ নারী করে। প্রযুক্তির ছোঁয়া যত লাগলো নারীর পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি ছুড়ে ফেলে কৃষি হয়ে উঠলো পুরুষের কাজ। একই সাথে পরিবেশের উপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব প্রান্তিক নারীর জীবনধারণের জন্য হয়ে উঠলো চ্যালেঞ্জসরুপ। অনেকে বলে থাকে নারীর ক্ষমতায়নে গার্মেন্টস শিল্প এক অভাবনীয় দিগন্ত উন্মোচন করেছে। হাজার হাজার নারী শ্রমিকের নুন্যতম মজুরি ৪/৫ হাজার টাকা যাও থাকে বকেয়া। নারী বলেই বিশ্বের আর যে কোন দেশের তুলনায় এই বেতন এত কম। তাই প্রযুক্তি অর্থনৈতিক উন্নয়নে কি ভূমিকা রাখবে তাঁর চাইতেও জরুরী প্রশ্ন হোল কার অর্থনৈতিক উন্নয়ন? কে ব্যাবহার করবে এই প্রযুক্তি? কি হারাতে হবে আমাদের এর বিনিময়ে?

তথ্যসুত্রঃ

১। ভারতের কৃষক বিদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম

২। আনু মুহাম্মদ, বিশ্ব পুঁজিবাদ এবং বাংলাদেশের অনুন্নয়ন, সংহতি প্রকাশন ২০০৭

৩। কল্লোল মোস্তোফা, মাহবুব রুবাইয়্যাত, অনুপম সৈকত শান্ত; জাতিয় সম্পদ, বহুজাতিক পুঁজি ও মালিকানার তর্ক, সংহতি প্রকাশন ২০১০

৪। আনু মুহাম্মদ, উন্নয়নের রাজনীতি, সূচীপত্র, ২০০৬

৫। আনু মুহাম্মদ, বিশ্বায়নের বৈপরীত্য, শ্রাবণ প্রকাশনী, ২০১১

৬। আনু মুহাম্মদ, বিপ্লবের স্বপ্নভূমি কিউবা, বিশ্বায়িত পুঁজিবাদে ল্যাটিন আমেরিকা, শ্রাবণ প্রকাশনী ২০১১

৭। আনু মুহাম্মদের সাক্ষাৎকার, রোদেলা প্রকাশনী, ২০১১